রাশিয়ায় সরবরাহ সংকটে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে গমের দাম। পণ্যটির বাজারদর বেড়ে ছয় মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটসের প্ল্যাটস জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এছাড়া রাশিয়ায় ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রফতানি কোটা কার্যকর হবে। এটিও মূল্যবৃদ্ধিতে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
প্ল্যাটস ৩০ জানুয়ারি রাশিয়ার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রোটিনযুক্ত গমের এফওবি মূল্য টনপ্রতি ২৪৩ ডলারে নির্ধারণ করেছে। নির্ধারিত এ মূল্যে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধ ও মার্চের প্রথমার্ধে গম সরবরাহ করা হবে। এর আগে গত বছরের জুনে তুষারপাত ও খরায় রাশিয়ার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফলে সে সময় রেকর্ড সর্বোচ্চ দামে বেচাকেনা হয়েছিল।
দাম বাড়ার কারণে কিছু ব্যবসায়ী গম সরবরাহের জন্য আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে গম সংগ্রহ বাড়িয়েছেন। এক আমদানিকারক বলেন, ‘আমাদের রুশ গমের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে দাম অনেক বেশি। তাই অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি বাড়িয়েছি।’
প্ল্যাটস জরিপ অনুযায়ী, রাশিয়া চলতি বিপণন বর্ষে (জুন-জুলাই) ৪ কোটি ৫০ লাখ টন গম রফতানি করতে পারে। এটি এর আগের বছরের ৫ কোটি ৪৭ লাখ টনের তুলনায় কম।
রাশিয়াভিত্তিক কিছু বিশ্লেষক জানান, রফতানি এখনো ধীরগতিতে চলছে। দেশটির জানুয়ারিতে মোট রফতানির পরিমাণ হতে পারে ২১ লাখ টন, যা গত বছরের ৩৬ লাখ টনের তুলনায় কম। ফেব্রুয়ারিতে তা ২৫ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। গত বছরের একই সময় ৪৪ লাখ টন গম রফতানি করেছিল রাশিয়া।
এদিকে রফতানি কোটা ছাড়াও রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় গমের জন্য রফতানি কর আরোপ করেছে। রফতানিতে ২৯ জানুয়ারি থেকে টনপ্রতি ৪ হাজার ৪৩০ রুবল কর কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, জুনের শুরুতে যা ছিল টনে ২ হাজার ৮৪৫ রুবল।
গম রফতানিতে অন্যতম শীর্ষ দেশ ইউক্রেন। এ দেশেও রফতানি মূল্য বেড়েছে। প্ল্যাটস ১১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রোটিনযুক্ত গমের মূল্য নির্ধারণ করেছে টনপ্রতি ২৩৬ ডলার, যা জুনের পর থেকে সর্বোচ্চ।